
নাটকের শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। এর আগে দুই অভিনেত্রীর মধ্যকার বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।
গত ০৪ অক্টোবর তানজিন নাহার তিশা ও সামিয়া আক্তার অথৈকে পৃথক চিঠি পাঠায় সংগঠনটি। চিঠিতে বলা হয়, গত ০৭ জুলাই তাঁদের সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুজনের কেউই সংগঠনের কার্যালয়ে ওই নোটিশের জবাব জমা দেননি। পরে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় তাঁদের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।
শুক্রবার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ফেসবুক লাইভে আসেন তানজিন তিশা। প্রায় ২৫ মিনিটের ওই লাইভে শুটিং সেটে সামিয়া অথৈর সঙ্গে বিরোধ, অভিনয়শিল্পী সংঘের সালিশ বৈঠক, সদস্যপদ স্থগিতের কারণ এবং গত আট মাসের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
তিশার মতে, পেশাগত বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা না করে তা প্রকাশ্যে এনে কাউকে হেয় করা কিংবা তাঁর ক্যারিয়ারের ক্ষতি করার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা তাঁদের সমালোচনার মুখে ফেলে এবং কাজের মাধ্যমে টিকে থাকতে চাওয়া শিল্পীদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তোলে। কর্মক্ষেত্রে অনেকের সঙ্গে মতের অমিল বা বিরোধ হতে পারে। কিন্তু সে কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা সাংবাদিকদের কাছে সবকিছু প্রকাশ করে কারও ক্যারিয়ারের ক্ষতি করা উচিত নয়।
গত এক বছরে তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেন তিশা। তিনি বলেন, গত এক বছরে অনেক কিছু দেখেছেন, ‘শাড়ি–কাণ্ডও’ দেখেছেন। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে বলে মন্তব্য করে সেই দিনের অপেক্ষায় থাকার কথা জানান তিনি।
সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে গত মার্চে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিংয়ে সামিয়া অথৈর সঙ্গে বিরোধের ঘটনাটি আবারও তুলে ধরেন তিশা। তাঁর দাবি, সেদিন শুটিং সেটে কী ঘটেছিল, তা উপস্থিত সবাই প্রত্যক্ষ করেছেন।
ঘটনাটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিশা বলেন, ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকে একজন মহান শিল্পী আছেন। তাঁর সঙ্গে তাঁর একটি সমস্যা হয়েছিল। শুটিং সেটের সবাই ওই ঘটনার সাক্ষী। কী ঘটেছে, আর কী ঘটেনি, তা সবাই দেখেছেন।
নাটকে নিজের অভিনীত চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিশা বলেন, পাগলের চরিত্রটি তিনি করেছেন, নাকি অন্য কেউ করেছেন, সেটিও দর্শকেরা দেখেছেন। দৃশ্যটি সম্পাদনা না করেই রাখা হয়েছে। তাই দৃশ্যটি দেখলেই কে ইম্প্রোভাইজ করেছেন এবং নির্যাতনের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সত্যতা বোঝা যাবে বলে দাবি করেন তিনি।
তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর অভিনয়শিল্পী সংঘের উদ্যোগে দীর্ঘ সময় ধরে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছিল। সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়েও ফেসবুক লাইভে কথা বলেন তিনি।
তিশা বলেন, ‘আমাদের সম্মানিত ব্যক্তিরা বিচারক হিসেবে ছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বসে পুরো ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন, কী ঘটেছে, সবকিছু শোনা হয়েছে। সেই বৈঠকের নোটিশও আমার কাছে আছে, লিখিতভাবে আছে।’
সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিশা আরও বলেন, তাঁদের দুজনকেই ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিতে এবং একটি ভিডিও বার্তা পাঠাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সামিয়া অথৈ ভিডিওটি দেননি। তিনিও কোনো কারণে ভিডিও বার্তা দিতে পারেননি। নোটিশ অমান্য করার কারণে তাঁকে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিশা। এ সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
Leave a Reply