
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়ন ভূমি অফিস এখন দুর্নীতির নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মো. ফরিদ আহমেদের বিরুদ্ধে নামজারি (খারিজ) সেবায় সরকারি নিয়ম অমান্য করে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। চাহিদামতো টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা এখানে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত নামজারি ফি-র কোনো তোয়াক্কাই করছেন না এই কর্মকর্তা। কায়াদপাড়া মৌজার মাত্র ৬ শতাংশ জমির খারিজের জন্য এক ব্যক্তির কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত ৮ হাজার টাকায় রফা হয়। অন্য এক ভুক্তভোগী জানান, এর আগে ১০ শতাংশ জমির খারিজ করতে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। টাকা দিতে না পারলে মাসের পর মাস সেবাগ্রহীতাদের ঘুরতে হচ্ছে বলে অভিযোগ দীর্ঘতর হচ্ছে।
দুর্নীতির বিষয়টি জানাজানি হলে এবং ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলে অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা মো. ফরিদ আহমেদ অফিস রেখে সটকে পড়েন। তাকে খুঁজতে গিয়ে সেবাগ্রহীতারা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও তার দেখা পাননি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘুষের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং তড়িঘড়ি করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মোহাম্মদ আলী কঠোর ভাষায় বলেন,“ভূমি কর্মকর্তারা খালি ব্যাগ নিয়ে অফিসে আসেন আর যাওয়ার সময় ঘুষের টাকায় ব্যাগ ভর্তি করে নিয়ে যান। এই প্রকাশ্য লুটপাট দেখার কেউ নেই।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই তহশিলদারের দাবি পূরণ না করলে ফাইলে নানা ত্রুটি দেখিয়ে কাজ আটকে রাখা হয়। হয়রানির ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে বা লিখিত অভিযোগ দিতে সাহস পাচ্ছেন না। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সিংগাইর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ওই দিন কর্মস্থলে না থাকার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করননি।
সায়েস্তা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি, এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার খুঁটির জোর কোথায় তা খতিয়ে দেখা হোক। অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে তাকে অপসারণ করে ভূমি অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
Leave a Reply